Bike review

KTM 390 Adventure R vs Royal Enfield Himalayan 450 Mana Black কোনটি বেশি পারফরমেন্স ও মাইলেজ দিয়ে থাকে? 

বর্তমানে দুটি অ্যাডভেঞ্চার সেগমেন্টের বাইকের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিশেষ করে সদ্য লঞ্চ হওয়া KTM 390 Adventure R বাজারে আসার পরেই Royal Enfield Himalayan 450 Mana Black-কে তার সাথে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছে। এর কারণ কেটিএম এর াইকের মধ্যে রয়েল এনফিল্ড এর র‍্যালি কিট দেওয়া হয়। যে সমস্ত ব্যক্তি এই মুহূর্তে একটি ভালো পারফরমেন্স ও মাইলেজ প্রদানকারী বাইক ক্রয় করতে চাইছেন তাদের কাছে দুটি সেরা অপশন হতে পারে KTM 390 Adventure R ও Royal Enfield Himalayan 450 Mana Black এই বাইক দুটি। তবে এই দুটির মধ্যে বেস্ট কোনটি সেটা জানার জন্য প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ পড়ে ফেলুন। 

বর্তমান জেনারেশন এর কাছে অ্যাডভেঞ্চার সেগমেন্টে বাইকগুলো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। দীর্ঘ যাত্রার সফরে অ্যাডভেঞ্চারাস অনুভূতি নেওয়ার জন্য সবাই এরকম বাইক পছন্দ করে থাকে। দেখে নেওয়া যাক এই বাইক দুটির স্পেসিফিকেশন, বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য দাম। 

বাজার মূল্য: KTM 390 Adventure R-এর এক্স-শোরুম মূল্য রয়েছে ৩.৭৮ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, Royal Enfield Himalayan 450 Mana Black-এর এক্স শোরুম দাম রয়েছে ৩.৩৭ লক্ষ টাকা। যদি দুটি বাইকের মধ্যে দামের তারতম্য করা যায় তাহলে দেখা যাচ্ছে, রয়েল এনফিল্ড থেকে কেটিএম 390 প্রায় ৪১,০০০ টাকা বেশি। অনেকে মনে করতে পারেন দাম বেশি হচ্ছে তবে দাম বেশি হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে সেটি হল KTM বাইকে আপনি বেশি পারফরম্যান্স ও আধুনিক ফিচারগুলো পাবেন। বিশেষ করে যে সমস্ত ক্রেতা হার্ডকোর অফ রোডিং অর্থাৎ এডভেঞ্চারাস বাইক খুঁজছেন তাদের জন্য কেটিএম বেশি প্রাধান্য পাবে। তবে রয়েল এনফিল্ড কোন দিক থেকে পিছিয়ে নয়, আপনি যদি অফ রোড সক্ষমতার সঙ্গে লং ট্যুরের এক্সপিরিয়েন্স নিতে চান তাহলে রয়েল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৫০ এই বাইকটি আপনার জন্য বেস্ট হতে পারে। 

আরোও পড়ুন: Maruti Suzuki Celerio 2026: খুবই বাজেট ফ্রেন্ডলি দামে আপনার স্বপ্ন পূরণ! জানুন ফিচার ও স্পেসিফিকেশন।

চাহিদা ও জনপ্রিয়তা: বর্তমানে রয়েল এনফিল্ড চাহিদা তো রয়েছে অনেক। রয়েল এনফিল্ড এর চাহিদা বরাবরই বাজারে একই রকম ভাবে চলছে। বহু বছর ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এই বাইক। প্রতিনিয়ত কোম্পানির তরফ থেকে আরও আধুনিক ও অভিনব ফিচার যুক্ত করে বাইক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাডভেঞ্চারাস এবং লংট্যুরের জন্য পারফরম্যান্স ক্ষমতা সম্পন্ন বাইক বলতে গেলে রয়েল এনফিল্ড হিমালয়ান অনেকটাই আপনার প্রত্যাশাকে পূরণ করবে। অন্যদিকে কেটিএম কোম্পানির বাইক ও বর্তমানে বাজারে বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই বাইকের ফিচার, পারফরম্যান্স গ্রাহকদের চাহিদা প্রত্যাশা পূরণ করবে। 

প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলো সহজ ভাষায়: 

ডিজাইন: ডিজাইনের দিক থেকে KTM 390 Adventure R সম্পূর্ণ র‍্যালি বাইক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই বাইকটিতে উঁচু উইন্ডস্ক্রিন, উল্লম্বভাবে সাজানো LED হেডলাইট এবং সরু বডি এই বাইক থেকে একটি স্পোর্টি অ্যাডভেঞ্চারস লুক এনে দিয়েছে। দৃশ্যমান ট্রেলিস ফ্রেম বাইকটিকে অন্যরকম একটা লুক ক্রিয়েট করেছে। অন্যদিকে, Himalayan 450 Mana Black-এর ডিজাইন করা হয়েছে কিছুটা ইউটিলিটারিয়ান টাইপের। এই বাইকটির মধ্যে স্পোর্টি চেহারা কম দেওয়া হয়েছে, তবে রাগেড উপস্থিতি বেশি। আপনি যদি স্পোর্টি র‍্যালি লুক পছন্দ করেন তাহলে KTM বেছে নিতে পারেন, অন্যদিকে শক্তপোক্ত বাইক চাইলে Himalayan 450 এই বাইকটি পছন্দ করতে পারেন।

ইঞ্জিন: KTM 390 Adventure R-এ দেওয়া হয়েছে ৩৯৯ সিসি লিকুইড-কুল্ড, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এটি ৪৫.৩ বিএইচপি শক্তি ও ৩৯ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। অন্যদিকে, Himalayan 450 Mana Black-এ ব্যবহৃত হয়েছে ৪৫২ সিসি লিকুইড-কুল্ড ইঞ্জিন। এটি ৩৯.৪ বিএইচপি শক্তি ও ৪০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করার ক্ষমতা রাখে। পারফরম্যান্স এবং শক্তির দিক থেকে KTM 390 Adventure R কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। 

অন্যান্য ফিচার: KTM 390 Adventure R-এ ব্যবহার করা হয়েছে WP Apex ইনভার্টেড ফর্ক ও মনোশক। এই ফর্ক ২০-ক্লিক অ্যাডজাস্টেবল। গাড়ির সামনে ২১ ইঞ্চি ও পিছনে ১৮ ইঞ্চি স্পোক হুইল, টিউব টাইয়ার দেওয়া হয়েছে। এই বাইকের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২৭২ মিমি, সিট হাইট ৮৭০ মিমি এবং কার্ব ওয়েট ১৭৬ কেজি। 

অন্যদিকে, Himalayan 450 Mana Black-এ ব্যবহার করা হয়েছে নন-অ্যাডজাস্টেবল Showa ইনভার্টেড ফর্ক ও মনোশক। এই বাইকের সামনে ২১ ইঞ্চি ও পিছনে ১৭ ইঞ্চি টিউবলেস স্পোক হুইল, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২৩০ মিমি, র‍্যালি সিটের সঙ্গে সিট হাইট ৮৬০ মিমি এবং কার্ব ওয়েট ১৯৫ কেজি। KTM তুলনামূলকভাবে হালকা হওয়ায় অ্যাডজাস্টেবিলিটির জন্য অফ-রোডে KTM বেশি সুবিধাজনক। তবে টিউবলেস স্পোক হুইলের কারণে পাংচার সারাতে Himalayan 450 বেশি গ্রহণযোগ্য। 

KTM 390 Adventure R-এ ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক TFT ডিসপ্লে, স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, কল/এসএমএস অ্যালার্ট, টার্ন-বাই-টার্ন ন্যাভিগেশন ও মিউজিক কন্ট্রোল, সুইচেবল ABS, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং তিনটি রাইডিং মোড। অন্যদিকে, Himalayan 450 Mana Black-এ ব্যবহার করা হয়েছে হয়েছে গোলাকার TFT কনসোল, ন্যাভিগেশন ও কল/এসএমএস অ্যালার্ট। 

KTM 390 Adventure R vs Royal Enfield Himalayan 450 Mana Black তুলনামূলক স্পেসিফিকেশন টেবিল: 

KTM 390 Adventure RRoyal Enfield Himalayan 450
ইঞ্জিন৩৯৯cc লিকুইড-কুলড ৪৫২cc
পাওয়ার৪৪.২ – ৪৫.৩ bhp৩৯.৪ bhp
টর্ক৩৯ Nm৪০ Nm
গিয়ারবক্স৬-স্পিড (কুইকশিফটার সহ)৬-স্পিড (স্লিপার ক্লাচ)
ওজন (কার্ব)১৮২ কেজি১৯৮ কেজি (ফুয়েল সহ)
ফুয়েল ট্যাঙ্ক১৪.৫ লিটার১৭ লিটার
সাসপেনশন (ফ্রন্ট)৪৩mm WP (অ্যাডজাস্টেবল)৪৩mm Showa (২০৪mm ট্রাভেল)
ব্রেক (ফ্রন্ট/রিয়ার)৩২০mm/২৪০mm (Dual ABS)৩২০mm/২৭০mm (Dual ABS)
টায়ার/হুইল২১/১৮ ইঞ্চি (স্পোকড)২১/১৭ ইঞ্চি (স্পোকড)
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স২৩০ mm২৩০ mm

উপসংহার: আপনি যদি উচ্চপারফরমেন্স ক্ষমতা সম্পন্ন এবং দীর্ঘ মাইলেজ ও অ্যাডভেঞ্চারাস বাইক কিনতে ইচ্ছুক থাকেন তাহলে এই দুটো বাইক একে অপরের সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতায় রয়েছে। তাই যে কোনো একটি আপনি আপনার পছন্দ মতন কিনতেই পারেন। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে KTM উচ্চ আরপিএম হয় বেশি পাওয়ার দিয়ে থাকে অন্যদিকে হিমালয়ান নিম্ন ও মধ্য আরপিএমের হওয়ায় ভালো টর্ক উৎপন্ন করে। ফিচারের দিক থেকে কেটিএম বাইকে কর্নারিং এবিএস, ট্রাকশন কন্ট্রোল অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন বেশি পাওয়া যায়। অন্যদিকে হিমালয়নের সিট অনেকটা উচ্চ থাকার জন্য দীর্ঘযাত্রার জন্য বেশি আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। যেকোনো একটি বাইক আপনার যেটা পছন্দ সেটা আপনি ক্রয় করতে পারেন। কারণ দুটি বাইক অ্যাডভেঞ্চারাস বাইক হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button